Saturday, November 4, 2017

From the pages of the past (Part - XI) [Morning of Madhyamgram]

মধ্যমগ্রামের সকাল 




অনেক দিন এমন হয়ে কি আমি অনেক দেরি অভদি ঘুমিয়ে থাকি।  সকাল হয়ে যায় কিন্তু আমার ঘুম ভাঙে না।  কেমন যেন একটা ক্লান্তি থেকেই যায় আমার শরীরে আর সে ক্লান্তি যে আদোও শারীরিক কি না সেটা কোনো রকম ভাবে বোঝা যায় না।  এতো আরামদায়ক বিছানা থাকতেও কেন যে ঘুম পুরো হয়ে না সেটা আজ অবধি জানতে পারি নি।  ঘুম যখন সকাল বলে ভাঙে না আর যখন অলসের বাঁধ ভেঙে যায় আর মনে হয়ে আরও একটু ঘুমিয়ে নি যেন কি কাল আবার ঘুম আসবে না তখন বুঝতে হয় কি সমস্যা শারীরিক না মানসিক।  

কিন্তু এক সময় এমন ছিল কি দশটা বাজলেই ঘুম এসে যেত আর ছটা বাজলেই ঘুম ভেঙে যেত।  এমন ঠিকানা , যেখানে বেশি ঘুম না তবে ভালো ঘুম হতো।  আমাদের মধ্যমগ্রামের বাড়িতে।  গরমকাল হোক বা শীতকাল ঠিক ভোরবেলা ঘুম ভেঙে যেত তার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।  

পাখির ডাক আর তার সাথে হালকা ঠান্ডা হাওয়া যেটা জানলা দিয়ে চুপি সাড়ে ঘরে ঢুকতো আর ঢোকা মাত্র আলতো আলতো করে মাথার উপর হাত বলাতো এই বলে কি "সকাল হয়ে গেছে অনেক ঘুম হলো এবার উঠে পর। " 

হওয়ার সাথে মিশে থাকতো উনুনের ধুয়ার গন্ধ।  সকাল বেলা উনুনে আঁচ দেয়া হচ্ছে অরে একটা অপ্ৰদূষিক ধুয়া আর মিষ্টি গন্ধ নাকে যেত।  পাশের বাড়িতে কোনো দিদি সকাল বেলা তানপুরা নিয়ে ভৈরবী রাগ সাধছে আর তার মিষ্টি সুর তার সাথে এই ধুয়ার গন্ধ মিলে একটা মন মাতানো আমেজের সৃষ্টি।  সেই আমেজ আরও উপভোগ করতো তারা যারা সেই সময় বারান্দায় দাড়িয়ে বা আরামকেদারায় বসে চা খেত।  সকাল বেলা এই গান, গন্ধ, চা আর আনন্দবাজার পত্রিকা নিয়ে শুরু হতো দিন।  

আমাদের বাড়ির নিচ দিয়ে একটা গেছো রোজ যেত খেজুরের রস নিয়ে।  অনেক সময় আমরাও ওই খেজুরের রস খেয়েছি।  সকাল সকাল খেতে খুব ভালো লাগে।  তখন কোনো FM রেডিও ছিল না তখন এইটাই ছিল আমাদের মর্নিং ব্লকবাস্টার আর এমন ব্লকবাস্টার যে নিত্য নুতন কাহিনী রোজ নিয়ে আসতো।  কখনো কখনো এই কাহিনীর মধ্যে কিছু অ্যাকশন হতো যেমন কি কাজের মাসির তক্কা-তক্কী আর কখনো সামনের টিউব-ওয়েল তে জল নিয়ে লড়াই।  

সব সকাল গুলোই একটা নুতন সকাল আর কোনো ভাবেই একঘেয়ে ছিল না।  

আজ কাল সে সব নেই।  সকাল বেলা হতেই এক রকমের নিত্যকর্ম একঘেয়ে জীবন।  বেশি ঘুম কিন্তু ভালো ঘুম না বা ভালো ঘুম ভাঙাও না।  
উঠে পড়তে না পড়তেই ফেসবুক দেখা কি কে আমাকে ভালোবাসে অরে কে আমাকে অগ্রাহ্য করে।  তার পর একটু টিভি দেখা আর সমাচারের নামে পরনিন্দা পরচর্চা।  
সকালে উঠে সমাচার পত্রে এই উদ্ঘোষণা পাওয়া কি এই পৃথিবীটা আর থাকার যোগ্য না।  চারি দিকে ত্রাহিমম আর ভ্রান্তির সৃষ্টি।  সবাই যেন দিশাহীন দৌড়োচ্ছে।  কখনো কখনো আঁতেল মার্কা কোনো 
esoteric বা দুর্বুদ্ধ ছবি বা লোকেদের থেকে রোগ হওয়ার ১০টি সহজ উপায় সোনা।  

সকাল এখন নির্মল না এখন সকাল হলো যুদ্ধের বুগেল।  

তাই এখনো মনে পরে মধ্যমগ্রামের সকাল। 


ইতি 

কল্যাণ 

From the pages of the past (Part X) [ Romance with Cricket and Bubble Gum]

বাবল গম , ক্রিকেট  আর তার সাথে আমাদের রোমান্স 





ছোটবেলা যখন ছিল আমরা কেউ সমৃদ্ধ ছিলাম না।  বাড়িতে সাদা কালো টিভি সকাল ৬টা থেকে সকাল ১১টা  অবধি জল আর সন্ধ্যে ৪টে  থেকে ৮টা  অবধি জল।  পাড়া পড়শী আর তাদের কথা বার্তা শুনে বোড়োদের দিন কেটে যেত।  আমাদের বাড়ির পাশে ছিল একটা মাঠ আর পুকুর।  এর উল্লেখ আমি আমার প্রথম লেখা তে করে ছিলাম।  তা যাই হোক।  আমরা সেই মাঠে খেলতাম।  

১৯৮৪ এনেছিল একটা তুমুল ঝড় যেটাকে আমরা বলি ক্রিকেট।  কে জানতো ভবিষ্যতে এই ক্রিকেট কোনোদিন আমাদের দেশের নুতন ইতিহাস লিখবে ! ১৯৮৩ তে আমরা যখন বিশ্বকাপ জিতি তার পরে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই নুতন খেলার মন মাতানো পাগলামি।  ঘরে ঘরে বল অরে ব্যাট।  প্রতিটি ঘরে ছোট ছোট ছেলে, কেউ হতে চাই গাভাস্কার বা কেউ কপিল দেব।  

ফুটবল প্রিয় বাঙালি কিন্তু এর থেকে অছুত থাকে নি।  আমরা সবাই কিন্তু অনেক অনেক দিন ধরে এই খেলা তাকে ফলো করছিলাম কিন্তু ভালো ভাবে অনুসরণ করিনি।  বাঙালি বলে ফুটবল আর সেটাই ছিল আমাদের প্রধান পরিচয়।  বাঙালি যদি সন্ধ্যের আড্ডাতে ফুটবল নিয়ে আর রাজনীতি নিয়ে চর্চা না করে তালে সেই আড্ডা অসম্পূর্ণ আর লোকেদের রাতের খাওয়া হজম হয়ে না।  তবে ১৯৮৩ বিজয়ের পরে সেই চিন্তা ধারা বদলায়।  চায়ের দোকানের আড্ডায় একটা নুতন চর্চা, একটা নুতন খেলা নিয়ে, ক্রিকেট।  

ক্রিকেট খেলা হিসেবেই না কিন্তু বাণিজ্যিক ভাবে অনেক আকর্ষিত করেছিল লোকেদের।  বড়লোকদের খেলা এখন মধ্য-বিত্ত পরিবারের বসার ঘরে চলে এসেছিলো।  লোকেরা জানতে পারলো যে এই খেলা খেলার জন্য বড়োলোক হওয়া কোনো আজ্ঞাধীন শর্ত না।  লোকেরা এই খেলাটা নিজের মতো করেও খেলতে পারে, মাঠে, পুকুরের ধারে, ফাঁকা রাস্তায় আর এর মধ্যে নিজের হিসেবে অনেক পরিবর্তন পর্যন্ত করতে পারে।  

বাণিজ্যিক দিকে অনেক পণ্যদ্রব্য বাজারে ফেলা হলো।  এর মূল আধার ছিল ছোট ছেলেদের আকর্ষিত করা।  কেন না  বয়স্ক প্রজন্মকে ফুটবল থেকে সরানো খুব কঠিন আর ওদের বিচারধারা বদলানো একটা চ্যালেঞ্জ।  ছোট ছেলেদের মাথায় এইটা ভালো ভাবে লেখার জন্য ব্যবসায়ীরা নির্ভর করে বাবল গামের ওপর।  ৩০ পয়সা দামের এই দ্রব্য তার মধ্যে ওরা ঢুকিয়ে দিলো স্টিকার যেটা যত জমা করবে ওরা ওতো prize পাবে।  প্রতিটা স্টিকারে ছিল রান নাতো উইকেট।  রান জমা করতে হবে ১০০০ আর উইকেট জমা করতে হবে ৮ এই করলে prize পাবে।  

আমি আর তাপসদা এর মধ্যে অনেক ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলাম।  বাবল গম  একটা যেমন নেশা হয়ে গেছিলো।  খাওয়ার জন্য না কিন্তু ওই স্টিকার গুলো জমা করার জন্য। আমি রোজ আমার মা কিংবা বাবাকে আবদার করতাম একটা বাবল গম কেনার জন্য আর ওই স্টিকার গুলো জমা করে রেখে দিতাম।  অঙ্ক কোষে দেখে রাখতাম কি কত রান বানানো হলো।  রবিবার হতো আমাদের হিসেবে নিকেশ অরে বন্ধুদের মধ্যে হতো এক রকমের আরেকটা ব্যবসা।  কারুর রান বেশি থাকলে আর উইকেট না থাকলে সে দশ রান দিয়ে একটা উইকেট অন্যদের থেকে কিনে নিতো।  যার রান কম সে এক উইকেট দিয়ে দশ রান কিংবা কোনো কোনো দিন ২০ রান পর্যন্ত কিনতে পারতো।  এই ছিল আমাদের দুর্দান্ত হিসেবে নিকসের কথা।  এক রকম রোমান্সে যাতে ছিল ক্রিকেট, বাবল গম আর আমরা।  

আজকাল যখন বাচ্চাদের দেখি যারা ভিডিও গেম নিয়ে মত্ত আর তারা ক্রিকেট খেলছে ভিডিও গেম নিয়ে তখন আপসোস হয়ে কি এরা কি ওই আনন্দ পাচ্ছে যেটা আমরা পেয়েছিলাম।  বোধ হয় না।  আমাদের অর্থাবাব ছিল কিন্তু আমরা নিজেদের সুখ শান্তি নিজেরা খুঁজে নিতাম।  

আজকাল কিন্তু সে সব হয়ে না।  আর তাই এই লেখা যাতে আজকের প্রজন্ম শুধু বাবার - লোধির ইতিহাস পড়েনা।  যদি ইতিহাস পড়তেই হয়ে তালে যাতে পড়ে ওদের বাবা, মা, কাকা , কাকিমার ইতিহাস।  


ইতি 

কল্যাণ 

Tuesday, October 31, 2017

From the pages of the past (Part IX) [ Discipline ------ and the Uniform]

অনুশাসন ও ইউনিফর্ম 



আমাদের ছোটবেলায় "অধিকার" শব্দটার মানে অনেকেই বুঝতো না।  আমরা জানতাম  খেলা,মজা, পড়া, বন্ধু-বান্ধব ইত্যাদী।  কেননা আমরা আর আমাদের প্রজন্ম এই বাগদা বাগদা শব্দের দিকে উদ্ভাসিত ছিলাম না।  আমাদের সময় আমরা শিক্ষক কে শ্রদ্ধা করতাম আর কিছু অংশে ভয় ও পেতাম।  আমরা এই তথ্যটা ভালো ভাবে জানতাম কি যদি আমাদের বিরুদ্ধে শিক্ষক কোনো অভিযোগ করে তালে শিক্ষক আর আমাদের মাতাপিতা এক দলে থাকবেন।  

পর্ণশ্রীর কাছা-কাছী  আমার পাঠশালা ছিল।  যেটা বলতে পারেন একটা Pre-Primary School  যার নাম ছিল Sunny Preparatory School । আমি ওখানে তিন বছর কাটাই আর ওখানে তৈরী হয় আমার শৈশবের অনুশীলন।  অনুশাসন আমাদের জীবনে খুব দরকার।  আপসোস এটা আমরা বাল্যজীবনে বুঝতে পারি কিন্তু প্রাপ্ত বয়েসে আমাদের কেমন যেন একটা মানসিক দূষণ হয়ে যার ভিত্তি তে আমরা এই সব অনুশাসনিক পদ্ধতির জলাঞ্জলি দিয়ে দি বা একটা ঘুলঘুলি বের করে নি।  বড়ো হওয়াটা যে এই দেশে কত বড়ো অপরাধ তা আর কি বলবো।  তা থাকে এখন অনুশাসনে ফোকাস করা যাক।  

স্কুলে রেভা আন্টি আমাকে খুব পছন্দ করতেন।  অবশ্য আমার দুস্টুমি অগ্রাহ্য করতেন না।  তবে তিনি এমন এক জন টিচার যার কাছ থেকে আমি ওই স্কুলে স্ক্যালের বাড়ি খাই নি।  তাই আমার ভারী পছন্দ।  একদিন আমাকে কেউ বলেছিলো যে স্কুলে এই ইউনিফর্ম জাতীয় জিনিষটা একটা সাহেবি কায়দার নকল।  আমি অবশ্য তখন সাহেব, ফরাসি, জাপানি কিছুই বুঝতাম না কিন্তু বাবাদের আড্ডায় আড়ি পেতে এইটা শুনতে পেরেছি।  আর রীতিমতো এইটা বুঝতে পেরেছি কি বাবা আর তার বন্ধুরা খুব একটা উনিফর্মের সমর্থক না।  ব্যাস আমার ভেতরের বাঘা যতীন খেয়ে দিয়ে অনশনের জন্য প্রস্তুত। আমিও ভেবে নিলাম কি এই ইউনিফর্ম কে ত্যাজ্য করে নিত্য নতুন জামা পরে স্কুলে যাবো।  বিদ্রোহ হলো আমার মার সামনে আর পাখার (হাত-পাখার) বাড়িতে সে বিদ্রোহ ক্রন্দনের সুর করে দমন হলো।  তবে বিদ্রোহ-দমন রেখে গেলো একটা প্রশ্ন আর সেইটা হলো ইউনিফর্ম কত জরুরী ? 

সোমবার স্কুলে গেলাম আর নির্ধারিত করলাম কি রেবা আন্টির সাথে কথা বলবো।  কেননা আমার এই ক্রান্তিকারী বিচার শুনে স্কেল না মারার নির্ণয় খালি উনি নেবেন আর আমি পাখার বাড়ি আগেই খেয়ে নিয়েছি।  

রেবা আন্টি কে জিজ্ঞেস করলাম "আন্টি বোলো তো সবাই বলে কে ইউনিফর্ম হলো সাহেবি কায়দা তালে আর সাহেবি কায়দা খারাপ তাহলে আমরা ইউনিফর্ম কেন পরী?"

রেবা আন্টি হাসেন আর আমাকে বলেন " বাবা এতো বড় বড় কথা তুমি কি করে জানলে ?"

- " আমি আড়ি পেতে বাবা আর ওদের বন্ধুদের আড্ডা শুনেছিলাম "

- "তাই নাকি আর কি শুনেছ ? "

- " এই যে ইউনিফর্ম সাহেবি কায়দা, আগে নাকি ইউনিফর্ম ছিল না , আর কি সব পন্থী তন্থী ----"

- " বামপন্থী ?"

- " হ্যা হ্যা ওই    বামপন্থী"

- " ও আচ্ছা। তার পর।  "

- "অন্য দেশে নাকি এসব হয়ে না আমাদের দেশে এসব লাগানো এমন তেমন। "

-" শোনো কল্যাণ ইউনিফর্ম হলো একটা অনুশাসনের জিনিস "

- "অনুশাসন ? মানে "

- "আচ্ছা তালে এই ভাবে বলি।  আমাদের স্কুলে অনেক বাচ্চা পড়ে।  কারুর পরিবার ওদের পুজোর সময় খুব ভালো জামা কিনে দে আর কারুর পরিবার ওদের ওতো ভালো জামা কিনে দিতে পারে না।  এবার যদি ইউনিফর্ম না থাকে তালে কেউ খুব ভালো জামা পরে আসবে আর কেউ অটো ভালো জামা পরে আসবে না।  তার মানে সবাই সমান হবে না।  আর যারা ওই ভালো জামা পড়া বাচ্চাদের দেখবে তারা এই আবদার ওদের মা বাবা কে করবে।  আর মা বাবার সেই আবদার পুরো করতে পারবে না।  তাতে কি ভালো হবে ?"

- "না আন্টি তাতে তো খুব ভালো হবে না। ওরা কষ্ট পাবে। "

- "তাই তো।  সেই জন্য এই ইউনিফর্ম করা।  যাতে সবাই এক সমান দেখায়। UNI মানে হলো একরকম আর FORM মানে হলো দেখানো, সেই ক্ষেত্রে UNIFORM মানে সবাই কে এক মতন দেখানো।  আর সবাই যদি এক রকম দেখায় তালে সবাই কে এক রকম ভাবে দেখা হবে আর সবাই কে এক রকম ভালোবাসা বা মার দেওয়া হবে।  "

আমি বুঝতে পারলাম দুটো জিনিস।  

১. সমানভাবে ভালোবাসা আর মারের জন্য এই ইউনিফর্ম ই দায়ী।  

২. সাহেবরা সব কিছু খারাপ করে যায় নি।  

সেদিন থেকে আমার ইউনিফর্ম এর প্রতি টান আরও বেড়ে গেলো আর আমি খুব সংবেদনশীল হয়ে গেলাম এই ইউনিফর্ম নিয়ে।  

আজকে বুঝতে পারি রেবা আন্টি কত বড়ো কথা বলেছিলো।  আমরা আজকেও অনেক লোকেরা এই কথা বুঝতে পারে না।  আজকে এমন অনেক স্কুল আছে যারা ফ্যাশন ডিসাইনার দিয়ে ইউনিফর্ম বানায় আর গ্রাফিকাল ডিসাইনার দিয়ে বই ডিসাইন করে।  স্কুল , পাঠশালা, বিশ্ববিদ্যালয় আজ একটা বাণিজ্যিক রঙ্গভূমি আর এই রঙ্গভূমিতে স্নাতক আর অভিভাবকরা জোকার হয়ে ঘুরে বেড়াই।  আজকে রেবা আন্টির মতো শিক্ষকের অভাব তাই আমরা একটা ভীতু আর একটা non-informed প্রজন্মকে প্রশ্রয় দিচ্ছি।  

ইতি 

কল্যাণ 


Saturday, October 28, 2017

From the pages of the past (Part VIII) [Joda Ileesh - A pair of Silver Fish]

জোড়া ইলিশ 



আমরা যারা পূর্ব বঙ্গ  থেকে পশ্চিম বঙ্গে স্থানান্তরিত হয়েছি তাদের প্রিয় খাদ্য হলো বর্ষাকালের ইলিশ মাছ।  হ্যা ইলিশ মাছ হলো আমাদের এক রকম পরিচয় পত্র।  ইলিশ মাছ রান্না করতে বিশেষ কিছু কৌশল লাগে না।  একটু কালো জিরে আর কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে একটা পাতলা ঝোল ইলিশ মাছের করা যায় যেটা হলো কি এক রকমের প্রাথমিক ব্যঞ্জন।  

অবশ্য সেইটাই যে এক মাত্র ইলিয়াসের ব্যঞ্জন সেটা বলা ভুল হবে।  ইলিশ নিয়ে আসে নিজের সাথে অনেক অনেক ব্যঞ্জনের প্রকরণ আর সব গুলো বলা বোধহয় অসম্ভব।  তবে বর্ষা কালে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে আমরা জোড়া ইলিশের স্বাদ নিতে বিলক্ষণ যেতাম।  

ঠাম্মা, মানে আমার ঠাকুমা, সব রকমের ইলিশ মাছের ব্যঞ্জন খুব সুস্বাদু বানাতো আর আমরা ছিলাম প্রধান ভক্ষক গণ।  

১৯৮৪, আর তখন আমাদের পরিবারে দুই রকমের লোকেদের আগমন হয়েছিল।  আমার বড়ো জেঠুর যমজ মেয়ে (রিয়া ওর রাকা) আর আমার ছোট ভাই (বুবু) । প্রসঙ্গটা আনন্দের আর উল্লাসের কেন না মুখার্জী পরিবার এখন আরো বিস্তারিত।  ঠাকুরদাদা জোড়া ইলিশ নিয়ে আসলেন।  

রবিবার দিন দুপুর বেলা আমাদের মধ্যমগ্রামের বাড়ির বারান্দায় কলাপাতা তে ইলিশের পাতুরি আর ইলিশের ঝোল দিয়ে ভাত করা হবে।  বিশেষ গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে ভাত তার উপর পদ্মা নদীর ইলিশের ব্যঞ্জন।  আমার ঠাকুরদা বাজার করতে উস্তাদ লোক ছিলেন তাই বেশ বড়ো বড়ো দুটো ইলিশ নিয়ে এসেছিলেন।  একটা ইলিশের ওজন আড়াই কিলোর মতো হবে।  ভক্ষক অনেক আর তাই এই ব্যবস্থা।  যাদের আগমন কে ঘিরেই এই প্রীতিভোজের আয়োজন তারা এখনো দুধের শিশু আর তারা জানেই না কি তাদের স্বাগতের জন্য কত লোকেরা আজ তৃপ্ত হবে।  

মধ্যমগ্রামের বাড়িতে একটা বিশাল বড়ো উনুন ছিল যেটা এই রকম ভোজের জন্য বানানো হয়েছিল।  তবে সেই দিন ওই উনুন ব্যবহার করা হয়নি।  আমরা যেহেতু গোটা ১০ এক ছিলাম তাই ছোট উনুনে রান্না হয়েছিল।  পাতুরি করা হলো কাঠ কয়লার আঁচে আর উনুনে হলো কালো জিরে দিয়ে ঝোল।  

কলাপাতার উপরে যখন এই পুরো খাদ্যটা ভোগ করা হলো তখন মনটা জুড়িয়ে গেলো।  

আজ ২০১৭, আমাদের সেই প্রীতিভোজ এখন ইতিহাস।  এমন এক ইতিহাস যেটা বোধহয় আমার মেয়ে বুঝতে পারবে না।  ও তো ইলিশ কে স্মার্ট ফোনেই দেখেছে।  আজ কাল বাচ্চারা তো আছে কিন্তু বালকিল্লতা নেই।  শিশু আছে শৈশব নেই।  আজ কাল আমরা চাই কি ছেলে মেয়েরা "Mature" হয়ে যাক।  শত হলে এই প্রতিশতের লড়াই যে লড়তে হবে।  কচিভাব থাকলে যে সে লড়াই ওরা হেরে যাবে।  তার পরে যদি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার না হতে পারে ? যদি ওদের রেজাল্ট ভালো না হয়ে?  যদি ওরা ভালো কলেজে ঢুকতে না পারে ? সেই ভয় আমরা আমাদের অনেক এমন প্রীতিভোজকে ত্যাজ্য করেছি আর করবো।  

জানি না আমরা ভালো হওয়ার জন্য কষ্ট করছি না ভালো হয়ে কষ্ট পাচ্ছি।  

আজ এই পর্যন্ত।  

ইতি 

কল্যাণ 

From the pages of the past (Part VII) [Madhyamgram]

মধ্যমগ্রাম 







তখন আসির দশকের প্রাথমিক পর্যা হবে।  আমরা বেহালায় থাকতাম।  এক দিকে বরিশা তে আমার দিদিমা এবং দাদামশাই থাকতেন আর এক দিকে মধ্যমগ্রাম ছিল আমার ঠাকুমা আর ঠাকুরদার বাড়ি।  নিজেদের বাড়ি।  মধ্যমগ্রামের অনেক কথা আছে আর সেইটা এক অধ্যায় তে বলা অসম্ভব।  সবচে বেশি যেটা ভালো লাগতো সেটা হলো মধ্যমগ্রাম  যাওয়ার জন্য রেলগাড়ি তে  যেতে হতো।  


শিয়ালদাহ থেকে মধ্যমগ্রাম বোধহয় চার খানা স্টপ হবে আর মাজেরহাট থেকে শিয়ালদাহ আরও চার খানা স্টপ।  আমার জন্য ওই ট্রেন চেপে যাওয়া ছিল মস্ত বোরো মজা। 

আমার জন্ম মধ্যমগ্রামে।  আমার সব ভাই, বোন, বাবা, জেঠু এদের সবার মধ্যে আমার একার জন্মটাই কিন্তু ওই আমাদের নিজেদের বাড়িতে।  আমি জনমত স্বাধীন আর স্বস্ত্রীতো, আমি ভাড়া বাড়িতে জন্ম নিয় নি আর সেইটা বোধ হয় আমার জীবনের এক মাত্র অহংকার যেটা আমি এখনো পুষে রেখেছি।  

কলকাতা শহর থেকে দূর মধ্যমগ্রাম ছিল একটা দারুন জায়গা। ওই জায়গায় আমাদের বাড়ি আর আমাদের বাগার আরও ভালো। সব ভাই বোনেরা মিলে খুব মজা হতো।  তখন কার দিনে স্মার্ট ফোন না থাকলেও স্মার্ট মানুষেরা বসবাস করতো।  তাই মজা করে খেলতে আমাদের খুব একটা অসুবিধা আমাদের হয়ে নি।  আজ কাল অবশ্য ছোট বাচ্চাদের কুমির-ডাঙ্গা খেলার জন্যও স্মার্ট ফোনের দরকার পড়ে , আমাদের সময় তা ছিল না।  চারি দিকে গাছ , স্বচ্ছ জলের পুকুর ( আর হ্যা , স্বচ্ছতা ছিল কর মুক্ত ), সকাল বেলা শাস্ত্রীয় সংগীতের রেওয়াজ, উনুনের ধুয়া আর টাটকা ইলিশ মাছের ব্যঞ্জন।  সাধারণত মধ্যমগ্রাম যাওয়া হতো বর্ষা-কালে, লক্ষ্মী পুজোতে আর সরস্বতী পুজো তে।  প্রথম দুইটি প্রসঙ্গে ইলিশ মাছ আর তৃতীয় প্রসঙ্গে থাকতো পাবদা কিংবা পার্শে মাছের ব্যঞ্জন।  

খাওয়া তা হতো কলা - পাতার উপরে গরম ভাতের সাথে। এর সঙ্গে থাকতো আলু ভাঁজ, ডাল, গন্ধরাজ লেবু আর ভাতের উপর ঝর্ণা-ঘি।  বাঙালিদের কিন্তু ঘি পর্যন্ত আলাদা হয় এইটা আমি বাংলার বাইরে এসে বুঝতে পারলাম।  সন্ধ্যে বেলায় লোড-শেডিং হতো আর তখনি হতো বড়োদের গানের আসর আর আমাদের ছোটদের লুকোচুরি খেলা। ঘামতে ঘামতে, মশার কামড় খেতে খেতে  আমরা খেলা বন্ধ করতাম না।  পুরো খেলতাম।  আমরা জানতাম যে এই চার দিন আমাদের কেউ আটকাবার নেই আর আমরা পুরো ভাবে খেলতে পারবো। 

অনেক দিন আমি মধ্যমগ্রাম যায় নি।  প্রায় এগারো বছর আগে গেছিলাম আর সেও এক বেলার জন্য।  আসলে ঠাকুমা আর ঠাকুরদাদার অবসানের পর আর যাওয়া হয়ে না।  শুনেছি আমাদের ছোটবেলার সেই গ্রাম নাকি শহুরে নেশায় মেতে উঠেছে।  পুকুর ভরাট হয়েছে , অনেক ফ্লাট-বাড়ি তৈরী হয়েছে।  মেট্রো রেলের পরিকল্পনাও আছে।  অনেক রেস্টুরেন্ট হয়েছে আর সবার হাথে পৌঁছে গেছে স্মার্ট ফোন।  যেইটা আজ নেই সেইটা হলো ওই কলা-পাতায় খাওয়া আর সকালের ওই মন-মুগ্ধ করা আমেজ। 

মধ্যমগ্রামের ব্যাপারে আরও বলবো। 

ভালো থাকবেন 

কল্যাণ 

Friday, October 27, 2017

From the pages of the past (Part VI) [Nosh-Pukur]

নোশ পুকুর 





অনেক দিন পরে আবার লেখার মন হলো।  হ্যা জানি কি অনেক দিন হয়ে গেছে আমি নিজের অতীতের পাতা পাল্টাই নী।  কিন্তু যখন বর্তমান কাউকে ঘূর্নী ঘোরায় তখন অতীতকে স্মরণ করা খুব কঠিন। কিন্তু আজ অবসরে কিছু খুনের জন্য মনে করলাম। 

কালকে যখন আমি হাঁটতে যাই তখন নজর পড়ে একটা পুকুরের দিকে। এমন না কি পুকুরটা কখনো আগে দেখিনি কিন্তু কালকে ওই পুকুরটাতে দেখলাম দুটো ছেলেদের চান করতে সাঁতার কাটতে।  মনে হলো এমন যেন আমার সাথে আগে হয়েছে।  হয়েছে বৈকী। মনে পড়ে গেল নশ পুকুর।  হ্যা নস-পুকুর, আমার জীবনের হাসি আর কখনো কান্না।  

গরম কালের ছুটিতে আমরা আমাদের দাদুর বাড়ি যেতাম। দাদুর বাড়ি বরিষা।  বরিষা তখন প্রায় গ্রাম।  কলকাতার প্রদূষণ আর মনোমদ তখন বরিশাকে স্পর্শ করেনি। নারকেল গাছ, পুকুর, জমিদার বাড়ি, কাচা রাস্তা আর পুকুরপারে আড্ডা।  গরমকাল পরতেই কেমন জানি একটা মন হত কখন যাব দাদুর বাড়ি আর নশ পুকুরে সাঁতার কাটব। 

নশ পুকুর ছিল আমাদের আকর্ষণ, আমাদের গরমকালের পারিশ্রমিক।  নশপুকেরের ঠান্ডা জল গ্রীষ্মকালের গরমকে পুরো পুরী স্তব্ধ করে দিত।  আসে পাশে সুপুরী আরে নারকেল গাছ গ্রীষ্মকালের পশ্চিমী বায়ুতে দুলত আর পুকুরের জলে তরঙ্গ এনে দিত।  আমরা সেই জলে সাঁতার কাটতাম।  আমি আর আমার ছোট ভাই।  সেই দুপুর বার্তায় পুকুরে নেবে আমরা দুপুর দুটো অব্দি পুকুরের জলে পড়ে থাকতাম।  আমরা তখন বরদাতে থাকি। ঐখানে পুকুর ছিলনা তাই আমাদের এই পাগলামি নশপুকুর দেখে। 

নশ্পুকুর ছিল আমাদের বাড়ির গায়ে লেগে তাই খালি স্নানের সময় না অন্য সময় আমরা নশ্পুকুরের পাশে খেলতাম। কলকাতা ছেড়ে আমরা তখন গুজরাতে থাকি তাই ওই গরমকালের ছুটিতেই বরিষা তে এসে সব আল্ল্হাদ পুরো করতাম। ঝাল মুড়ি আলুর চপ পরশে মাছ আর নশ্পুকুর। 

নশ্পুকুর আমাদের অনেক সুখ দুখের সাক্ষী।  আমার মাসির বিয়ে, আমার দাদুর অবসান, আমাদের ঠাকুরের ভাসান।  সব নশ্পুকুর দেখেছে। আমাদের সাথে হেসেছে আর কেঁদেছে।  

২০১২ তে আমার দীদার অবসান হয়ে আর তার সাথে আমি নশ্পুকুরকে শেষ দেখি। আমাদের ফাঁকা বাড়ির মত সেও যেন কেমন মনমরা হয়ে আছে।  জল যেটা আগে আয়নার মত স্বচ্ছ ছিল যেটা আজ হয়ে গেছে ঘোলা।  আজ দায়িত্বহীন লোকেরা এই পুকুরে ময়লা ফেলে, জল নোংরা করে আর সেই তিরস্কার নশ্পুকুর চুপ চাপ সয়ে যায়ে আর কোনো বয়স্ক লোকের মত সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ে।  যেই পুকুরে ঠাকুর ভাসান হয়ে সেই পুকুরেই আবার কেউ সিগারেট ফেলে আর কেউ চিপসের প্যাকেট।  আজ নশ্পুকুরে খুব কম লোকেরা স্নান করে।  আজ নশ্পুকুর অনাথ।  কিন্তু সেইটা কেন হয়েছে আমরা জানি। 
সুনেছি নাকি নশ্পুকুর ভরাট হয়ে যাবে। উন্নয়নের মাপদণ্ড। ভালই হলো।  যারা নশ্পুকুরের কদর করত তারা তো আর নেই।  নশ্পুকুর তাদের শ্রাধ্যের পিন্ডদান নিয়ে ভারী হয়ে গেছে। বোধ হয় তারাও নশ্পুকুরকে চাইছে তাই হয়েত।  

আজ আমি আমাদের এই পুরো প্রজন্মের তরফ থেকে আমার পূর্বপুরুষের কাছে ক্ষমা চাইছি কি আমরা ওদের এই ঐতিঝ্য়ের রক্ষা করতে পারিনি।  

From the pages of the past (Part V) [Foresignt of Mukherjee Jethu]

মুখার্জী জেঠুর গাড়ি  -  গেলোনা দিঘা 




বনমালী নস্কর রোডের  যে বাসাতে আমরা ভাড়া থাকতাম তার ঠিক সামনে ছিল মুখের্জী জমিদার বাড়ি।  বিশাল বড় বাড়ি।  আসলে প্রাসাদ বললেই হয়ে।  বাড়িতে যে রান্নাঘরটা ছিল সেইটা আমাদের গোটা বাসাটার চে দ্বিগুন বড়।  ১৯৮৩ সনেও বনেদী মহিমা কিছু অংশে কম হয়ে নি।  তবে কি ইংরেজ রাজত্য তো আর নেই আর কম্পানি বাহাদুর ও ছিল না তাই জমিদারী কাজ কারবার আর ছিল না।  তবে মুখের্জী বাড়ির সামনে যে কারখানা বানানো ছিল সেইটিতে সম্পূর্ণ দখল মুখের্জী জেঠু, মানে ওই বনেদী বাড়ির বর্তমান অধিশ্বরের ছিল।  

মুখের্জী জেঠু কে কোনো অংশে একটা দুর্দন্তপ্রতাপ সামন্ততান্ত্রিক হিসেবে মনে হত না।  অত্যন্ত সরল লোক আর খুবই সাত্ত্বিক জীবন যাপন করতেন। পরনে ধুতি পাঞ্জাবী অধিকাংশ সময়ে আর সন্ধ্যে বেলা দালানে পায়চারী করে সসা খাওয়া অনার দিন্চর্য়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।  

এই সবের মধ্যে মুখের্জী জেঠুর বাড়িতে একটা দারুন জিনিস ছিল যেটা বোধয় ওই পাড়াতে কারুর কাছে ছিল না।  সেইটা ছিল মুখের্জী জেঠুর কালো রঙের ambassador গাড়িটা।  ১৯৮৩ তে আমি মাত্র ৩ বছরের শিশু, আর তখন ভারতের অর্থনিতী তেমন ছিল না যে সবার বাড়িতে গাড়ি থাকুক। গাড়ি আর দূরভাষ যন্ত্র সুধু শ্রীমন্ত লোকেদের আধীন ছিল আর এই দুইটি জিনিস মুখের্জী জেঠুর কাছে ছিল।  আমরা, মানে আমি আর আমার সমবয়েসী ও সম-অর্থী বন্ধুরা গাড়ি বলে taxi বুঝত আর বুঝত কলকাতার ঝুলন্ত বাস, আর কলকাতার ঐতিঝ্য কলকাতার ট্রাম।  

তবে যেখানে সমৃদ্ধি সেইখানেই কিন্তু ছিল কৃপনতা।  গাড়িটার দর্শন পাওয়া যেত সুধু রবিবার সকাল নটা নাগাদ যখন মাখন আর আরেকজন, যার নাম মনে পড়ছে না, গাড়িটাকে স্টার্ট দিত আর কিছুখুন বের করে আবার গ্যারেজ করে দিত।  পুরো কারবার চলত ১৫ মিনিট। যার মানে রবিবার ৯:১৫ থেকে পরের রবিবার ৯:০০ অবধি গাড়িটা গ্যারেজেই থাকত। 

আজকে আমরা সবাই প্রতি তিন বছরে নুতন গাড়ি কেনার চাহিদা রাখি।  আমরা যেখানেই যাই গাড়ি করে যেতে ভালোবাসি।  এইটা অগ্রাঝ্য করে কি কত তেল পুড়ে যাবে, বা রাস্তার অবস্থা না ভেবে। কিন্তু ওই ১৯৮৩ তে মুখের্জী জেঠু কিন্তু এই গাড়িকে নিয়ে যে সমস্যা হবে ৩০ বছর পর সেইটা দেখতে পেরেছিলেন। তখন তেল সংরক্ষণ কত প্রাথমিকতা পায়েনি বৈকি কিন্তু ভবিশ্বাতের অবস্থা কি হবে সেইটি জেনে কতে তেলের সংরক্ষণ যে হয়েছে তা কে জানে।  

আজ তাই আমি মুখের্জী জেঠু কে যারা কৃপণ বলত তাদের সবার হয়ে ক্ষমা চাইছি।  কেননা মুখের্জী জেঠু নিজের পরিমণ্ডলের উপর নিজের যা কর্তব্য সেইটি কিন্তু ৩০ বছর আগেই করে গেছেন।